যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা বাড়াতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ সপ্তাহে সৌদি আরবের রিয়াদ ও তুরস্কের আঙ্কারা সফর করবেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল)। এক বিবৃতিতে জানান, শাহবাজ শরিফ তাকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই উদ্যোগটি এমন এক সময় নেয়া হচ্ছে, যখন দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলা আপাতত থেমে আছে।
জারদারি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে, যাতে শান্তি প্রক্রিয়া টিকে থাকে। অপ্রকাশিত সূত্রের বরাতে জানা যায়, নতুন শান্তি আলোচনার জন্য ব্যাকচ্যানেল কূটনীতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জাতিসংঘের মন্তব্যে এই উদ্যোগে সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে আশাবাদের পাশাপাশি কিছু জটিলতাও রয়েছে। গত রোববার ২১ ঘণ্টার সরাসরি আলোচনা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের মধ্যে, কিন্তু কোনো ফল ছাড়াই তা শেষ হয়।
ট্রাম্প একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। তবে পরে তিনি জানান, বৈঠকের সম্ভাব্য স্থান আগে ইউরোপ বলা হলেও এখন এটি ইসলামাবাদে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ‘চমৎকার কাজ করছেন’ বলেও প্রশংসা করেন। অন্যদিকে এপি (অ্যাসোসিয়েট প্রেস)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটন নতুন আলোচনায় সম্মত হলেও স্থান, সময় এবং প্রতিনিধিদলের বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইসলামাবাদ ও জেনেভাকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।,
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেন, যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি, তবে বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য ধারাবাহিক আলোচনার প্রয়োজন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ জোরদার করেছে বলে জানা যায়, যা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে।
ইসলামাবাদ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক কামাল হায়দার বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বর্তমান যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই আবার যোগাযোগ চালু রাখার কথা স্বীকার করছে। ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা যায়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান টেলিফোনে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার বিষয়ে কথা বলেছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
আরও পড়ুন:








