মঙ্গলবার

১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১ বৈশাখ, ১৪৩৩

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হরমুজ পার করলো চীনা জাহাজ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৩৪

শেয়ার

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হরমুজ পার করলো চীনা জাহাজ
ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা ওয়াশিংটনের ঘোষিত নৌ-অবরোধের কার্যকারিতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

এলএসইজি-র শিপিং তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ‘রিচ স্টারি’ নামের এই ট্যাঙ্কারটি চীনের মালিকানাধীন এবং এতে চীনা ক্রু অবস্থান করছেন।

ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাঝারি পাল্লার এই ট্যাঙ্কারটি আগে ‘ফুল স্টার’ নামে পরিচিত ছিল এবং ইরানকে জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করার অভিযোগে ২০২৩ সালে ওয়াশিংটন এটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। তবে বর্তমান যাত্রায় জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার আগে ইরানি বন্দরে ভিড়েছিল কি না বা এতে কোনো পণ্য বোঝাই ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ট্যাঙ্কারটি গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার প্রচেষ্টা চালায়। সোমবার নিউ ইয়র্ক সময় সকাল ১০টায় মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার পরপরই জাহাজটি ইরানের কেশম দ্বীপের কাছে সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ফিরে এসেছিল। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরেই জাহাজটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে এবং বার্তা প্রদান যন্ত্রের মাধ্যমে প্রচার করতে থাকে যে এর মালিক ও ক্রু উভয়ই চীনা নাগরিক।

সমুদ্রসীমায় চলাচলের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রচলিত নিরাপত্তা কৌশল হলেও বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ চীনের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাবে কি না, তা এখন বড় পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।,

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার থেকে ইরানের ওপর এই নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী শিপিং কমিউনিটি এবং জ্বালানি ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অবরোধের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা ‘ফাইন প্রিন্ট’ বুঝতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্লুমবার্গের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায় যে, অবরোধের বিস্তারিত নিয়মগুলো পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তারা আপাতত তাদের জাহাজ চলাচলের কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত ইরানের তেল বিক্রির সক্ষমতা সীমিত করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালির এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চীনের মতো শক্তিশালী দেশের জাহাজ যখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে যাতায়াত করছে, তখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সেদিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।

যদি যুক্তরাষ্ট্র এই জাহাজটিকে আটকাতে যায়, তবে তা বেইজিংয়ের সাথে নতুন করে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে একে ছেড়ে দিলে ট্রাম্পের ঘোষিত অবরোধের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। সার্বিকভাবে হরমুজ প্রণালি এখন এক চরম স্নায়ুযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান



banner close
banner close