১৩ এপ্রিল উত্তর গাজা উপত্যকার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দিয়ে ফিলিস্তিনিরা হেঁটে যাচ্ছেন। ছবি: এএফপি
গাজায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলা এবং পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক উচ্ছেদের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ এপ্রিল)। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মার্চ মাসে গাজায় একাধিক ঘটনায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় বাস্তুচ্যুত মানুষের তাবুতে আগুন লাগে এবং এতে বহু মানুষ নিহত হন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বারবার বাস্তুচ্যুতি, আতঙ্ক এবং লক্ষ্য করে হামলার এই ধারাবাহিকতা ফিলিস্তিনিদের জীবনকে অসহনীয় করে তোলা এবং তাদের ভূমি থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। খবর আল জাজিরার।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, গাজার অধিকাংশ মানুষ ইতোমধ্যেই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা জোরপূর্বক স্থানান্তরের শামিল। বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষের আশ্রয়স্থলকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেন, তাবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা মানুষজন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। খাদ্য সংকট, শীত, বন্যা এবং মৌলিক সেবার অভাব তাদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। এতে নারী ও শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এছাড়া, অধিকৃত পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক উচ্ছেদ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলি বাহিনী এবং রাষ্ট্র-সমর্থিত বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার কারণে প্রতিদিনই হত্যা, আহত হওয়া এবং নারী-শিশুদের হয়রানির ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকা ধ্বংস করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের কারণে ৩৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ প্যানেলটি বলেছে, এসব কর্মকাণ্ডের ধরণ ও পরিসর ইঙ্গিত দেয় যে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এক ধরনের জাতিগত নির্মূল নীতি চালু রয়েছে। তারা ইসরায়েলকে পশ্চিম তীরে সব ধরনের জোরপূর্বক উচ্ছেদ বন্ধ করার এবং বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং জবাবদিহিতা ছাড়া চলমান দখলদারিত্বে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া যাবে না।
এই বিশেষজ্ঞ প্যানেলে ১৩ জন সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ, বাস্তুচ্যুতদের অধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পাওলা গাভিরিয়া বেটানকুর, খাদ্য অধিকারের বিশেষজ্ঞ মাইকেল ফাখরি এবং নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিম আলসালেম অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।,
আরও পড়ুন:








