ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে পারেন। এর মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।
একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা কাটছে না, ঠিক তখনই জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিশ্ব এখন জ্বালানি, খাদ্য এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি-এই তিন ধাক্কার মুখোমুখি।
দারিদ্র্য বিমোচনে নিয়োজিত এই সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাত আন্তর্জাতিক উন্নয়নের পথে অর্জিত সাফল্যগুলোকে উল্টো দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় অনুভূত হবে। বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সংস্থাটির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, যুদ্ধ থামলেও (যুদ্ধবিরতি)। ক্ষতিকর প্রভাব ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
ইউএনডিপির এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ওয়াশিংটনে আইএমএফ-এর বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। সংস্থাটি বলছে, অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামাল দিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করতে একটি বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সংস্থাটি যুদ্ধের তিনটি সম্ভাব্য চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখেছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে অর্থাৎ, যদি তেল ও গ্যাস উৎপাদনে ছয় সপ্তাহ বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং পরের আট মাস ধরে উচ্চমূল্যের প্রভাব বজায় থাকে-তাহলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়বেন।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত ‘আপার-মিডল-ইনকাম’ বা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দারিদ্র্যসীমা অনুসরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই মানদণ্ড অনুযায়ী, যাদের দৈনিক আয় ৮ দশমিক ৩০ ডলারের কম, তাদের এই সীমায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বৃদ্ধির এই হারের অর্ধেকই দেখা যাবে জ্বালানি আমদানিকারক ৩৭টি দেশে। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা, এশিয়া এবং ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে।
আরও পড়ুন:








