যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা ছয় সপ্তাহের বিধ্বংসী বিমান ও বোমা হামলার পরও ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলোর বেশির ভাগই অক্ষত রয়েছে। কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সক্ষমতা বর্তমানে ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা আদায়ের ক্ষেত্রে তেহরানের হাতে বড় একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ খবর জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করছে। এমনকি এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করা ছিল ওয়াশিংটনের যুদ্ধে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। সাম্প্রতিক হামলায় তেহরানের পারমাণবিক গবেষণাগার এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাঁচামাল ‘ইয়েলো কেক’র একটি কারখানা ধ্বংসের দাবি করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের হাতে এখনও প্রচুর সেন্ট্রিফিউজ এবং ভূগর্ভস্থ সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র রয়েছে।,
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইরানের কাছে এখনও প্রায় ১ হাজার পাউন্ড উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। জাতিসংঘ পারমাণবিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এর অর্ধেকই ইস্পাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের গভীর সুড়ঙ্গে সুরক্ষিত অবস্থায় আছে। হোয়াইট হাউসের সাবেক কর্মকর্তা এরিক ব্রিউয়ার বলেন, ‘ইরান এত সহজে এগুলো হাতছাড়া করবে না। গত ফেব্রুয়ারির আলোচনার তুলনায় এবার তাদের দাবি অনেক বেশি হবে।’
গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বাঙ্কার বাস্টার বা ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর বোমার আঘাতে ফোরদো ও নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে এবারের ছয় সপ্তাহের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক শক্তির ওপর নজর দিলেও ইসরায়েল সরাসরি পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তারা তেহরানের বাইরের ল্যাব, বিশ্ববিদ্যালয় এবং পারচিন সামরিক সাইটে হামলা চালিয়েছে। এমনকি গত বছরের মতো এবারও ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এত কিছুর পরও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব উপাদানই ইরানের কাছে রয়েছে। নাতাঞ্জ কেন্দ্রের কাছে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নামক সুরক্ষিত টানেল কমপ্লেক্সে ইরান এমনভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারে, যেখানে মার্কিন শক্তিশালী অস্ত্রগুলোও পৌঁছাতে পারবে না। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত জব্দ করার জন্য সামরিক অভিযানের কথা ভাবলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সফল হয়নি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা ট্রাম্পের জন্য একটি চূড়ান্ত সীমা। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে তাদের এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ প্রস্তাব দিয়েছেন যে, ইরান দেশীয় সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে বিদেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম গ্রহণ করতে পারে।
পাকিস্তানে আলোচনার প্রথম পর্যায়ে হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানি নিরাপত্তা গুরুত্ব পেলেও পরবর্তী ধাপে পারমাণবিক ইস্যুটিই মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠে। তবে একটি বিষয় এখনও অস্পষ্ট, ইরান আসলে পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির সক্ষমতা কতটুকু অর্জন করেছে। অস্ত্র পরিদর্শক ডেভিড অলব্রাইট মনে করেন, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে, যা তেহরানের দর-কষাকষির ক্ষমতাকে কিছুটা দুর্বল করতে পারে। তবে পূর্ণ সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও সংশয় কাটেনি।,
আরও পড়ুন:








