রবিবার

১২ এপ্রিল, ২০২৬ ২৯ চৈত্র, ১৪৩২

যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা কত, জানাল ইরান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:১৬

শেয়ার

যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা কত, জানাল ইরান
ছবি সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানের কতজন নাগরিক মারা গেছেন সে সম্পর্কে একটি বিবৃতি দিয়েছে দেশটির ফরেনসিক বিভাগের প্রধান আব্বাস মাসজেদি আরানি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানের ৩,৩৭৫ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

বিবৃতিতে আরানি আরও বলেন, নিহতদের মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ ও প্রায় ৫০০ জন নারী রয়েছেন। ফরেনসিকভাবে এসব লাশ কর্তৃপক্ষ শনাক্ত করেছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এছাড়া পৃথক এক বিবৃতিতে ইরানের জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ২ হাজার ১১৫ জন ইরানি শিশু ও কিশোর আহত হয়েছে।

ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাফর মিয়াদফার বলেন, হামলায় আহত ১৮ বছরের কম বয়সী এসব ভুক্তভোগীর মধ্যে ১২৪ জনের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। এমনকি আহতদের মধ্যে ২৪ জনের বয়স দুই বছরেরও কম।

জাফর মিয়াদফার আরও বলেন, আহতদের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার নারী রয়েছেন। এই হামলাগুলোর বেশিরভাগই চালানো হয়েছে তেহরান, খুজেস্তান, লারেস্তান, ইসফাহান, কেরমানশাহ এবং ইলাম প্রদেশে।

এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানায়, যুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, এতে ইরানের ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। যা বাংলাদেশি অর্থে প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকার সমান।,

আর্থিক প্রভাবের বাইরেও, এই সংঘাত ইরানের নৌ সম্পদ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, পারমাণবিক অবকাঠামো এবং জনবলসহ ব্যাপক সামরিক ক্ষতি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় হয়।

এদিকে ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুদ্ধে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংস্থাটির প্রধান পিরহোসেইন কলিভান্দ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, সারা দেশে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় এক লাখ আবাসিক স্থাপনা, যেগুলোর কিছু অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ২৩ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলো সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহের স্থান ছিল।,

তিনি আরও জানান, হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জরুরি সেবাকেন্দ্রসহ মোট ৩৯৯টি চিকিৎসা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কলিভান্দ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ৮৭৫টি শিক্ষা কেন্দ্র ও স্কুল এবং ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় হামলার শিকার হয়েছে।

এছাড়া, রেড ক্রিসেন্টের শাখা, ঘাঁটি বা গুদামের মতো ২০টি কেন্দ্রকে সরাসরি টার্গেট করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।,



banner close
banner close