ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর ভারতে অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন দীর্ঘ সময় ধরে তাকে দিল্লিতে আশ্রয় দিয়ে রাখা হয়েছে।
শুক্রবার এক রাজনৈতিক বক্তব্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিষয়টি কেবল মানবিক সহায়তা বা কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ইঙ্গিত দেন, এর পেছনে অর্থনৈতিক বা করপোরেট স্বার্থ থাকতে পারে। তার মতে, ভারতের কিছু প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিবেশী প্রথম নীতির সমালোচনা করে বলেন, প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের ভূমিকা নিয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি দেশের জনগণের সামনে পরিষ্কার করা উচিত।
অন্যদিকে, ভারতের ক্ষমতাসীন দল এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে এর আগে বিভিন্ন সময়ে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে আশ্রয় প্রদান আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে এই ইস্যু রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং তা রাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সংবেদনশীল দিকগুলোকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠছে।
আরও পড়ুন:








