নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে ২০২৫ সালের প্রাণঘাতী বিক্ষোভ দমনের অভিযোগে ১২ দিনের হেফাজত শেষে বৃহস্পতিবার মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে তদন্ত সমাপ্তির পর শর্তসাপেক্ষে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দায়িত্ব গ্রহণের পরদিন কাঠমান্ডু পুলিশ ওলি ও লেখককে গ্রেপ্তার করে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুবসমাজের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়। ওই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু বিক্ষোভকারী নিহত হন। একটি তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওলি ও অন্যান্য কর্মকর্তারা নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি চালানো থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং এটি অপরাধমূলক অবহেলার শামিল। কমিশন মামলা দায়েরের সুপারিশ করে।
কাঠমান্ডু পুলিশের মুখপাত্র পাওয়ান কুমার ভট্টারাই জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখক উভয়কেই আজ মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। প্রয়োজনে তাদের পুলিশের কাছে হাজির হতে হবে এবং দু’জনকেই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওলি ও লেখক উভয়েই সহিংসতার দায় অস্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তারের আগে তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে এখনও কোনো চার্জশিট দাখিল হয়নি।
ওলির দল সিপিএন-ইউএমএল এই গ্রেপ্তারকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলির স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা সুপ্রিম কোর্টে হেবিয়াস করপাস আবেদন করেন। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আবেদন খারিজ করে দেয় এবং তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেয়। আদালত কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত সময় না দিয়ে তদন্ত সমাপ্ত করতে বলেছে।
৭৪ বছর বয়সী ওলিকে গ্রেপ্তারের পরপরই হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, এটি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছিল এবং তিনি হৃদরোগ ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে ক্ষোভে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেন এবং শেষ পর্যন্ত ওলির সরকারের পতন ঘটে। নতুন নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহর দল বিপুল বিজয় লাভ করে।
তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং মুক্তির শর্ত অনুসারে প্রয়োজনে ওলি ও লেখককে পুলিশের কাছে হাজির হতে হবে।
আরও পড়ুন:








