লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ব্যাপক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ২৫৪ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও এক হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ। বুধবার পরিচালিত এ অভিযানে মাত্র দশ মিনিটের ব্যবধানে শতাধিক বোমাবর্ষণ করা হয়েছে বলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী নিশ্চিত করেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য বিভাগ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরদিনই এই হামলা চালানো হয়। যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী যুদ্ধাবসানে রূপান্তরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলাকালে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ৫০টি যুদ্ধবিমান লেবাননের বিভিন্ন স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, অভিযানে হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগার ও সামরিক কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে বোমাগুলোর অধিকাংশই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হেনেছে, ফলে হতাহতের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বৈরুতের বিভিন্ন হাসপাতালে আহত ও নিহতদের স্বজনদের ভিড়ে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য, ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দমন করতে ইসরায়েল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে অভিযান শুরু করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া নতুন উত্তেজনার জেরে গত ২ মার্চ থেকে এ যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে ইসরায়েল লেবাননে বিমান ও স্থল অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাতে জানা গেছে, লেবাননের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে, হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের মানারা বসতি লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবাননের ওপর আমেরিকা-ইসরায়েলি আগ্রাসন যতদিন চলবে, ততদিন তাদের প্রতিরোধ ও পাল্টা জবাব অব্যাহত থাকবে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি বিভাগের পরিচালক ফাদি আলামেহ্ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। বেশ কয়েকটি হাসপাতালে রক্ত সংকট দেখা দিয়েছে এবং জরুরি বিভাগে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে টানা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি।
আরও পড়ুন:








