যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধকে ঘিরে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননের পরিস্থিতি এখনও অস্থিরই রয়ে গেছে। ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে, আর এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের দ্বারস্থ হয়েছেন লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি। একই সঙ্গে ফ্রান্সও সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। খবর আল জাজিরা
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি লেবাননে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত সালমান আথারকে ফোন করেছেন। তিনি ইসরায়েলের বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং দক্ষিণ লেবাননে চলমান হামলা নিয়ে দেশটির উদ্বেগ তুলে ধরেন এবং পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে বিষয়টি তাদের সংশ্লিষ্ট মহলে জানাতে অনুরোধ করেন।
ফোনালাপে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী শিয়া রাজনীতিক বেরি আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে ইসলামাবাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রদূতকে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি খুবই ভালো একটি বিষয়’। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননের পরিস্থিতি সংকটাপন্ন এবং এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।,
এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে, যদিও ইসরায়েল এখনও লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গোষ্ঠীটির ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে বুধবার (৮ এপ্রিল)। ভোর থেকে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েল এবং লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করেছে।
তবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং একটি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরের বাসিন্দাদের নতুন করে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত থাকবে না।
এমন অবস্থার মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরে হামলা চালিয়েছে। এর আগে ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জোরপূর্বক এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এর কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বৈরুতের হারেত হ্রেইক, ঘোবেইরি লাইলাকি, হাদাথ, বুর্জ আল-বারাজনে, তাওহিদাত আল-গাদির এবং শিয়াহ এলাকায় বসবাসকারীদের জন্যও জোরপূর্বক এলাকা ছাড়ার নির্দেশ জারি করে।
ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে সম্প্রসারিত সামরিক অভিযান ইতোমধ্যেই দেশটিতে অন্তত ১২ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে।,
এর আগে উপকূলীয় শহর সাইদনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়। এই হামলার কিছুক্ষণ পরই পাকিস্তান ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে ইসরায়েল স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হুমকি দিয়ে বলেছেন, হারেত হ্রেইক, ঘোবেইরি, লাইলাকি, হাদাথ, বুর্জ আল-বারাজনে, তাওহিদাত আল-গাদির এবং শিয়াহ এলাকার বাসিন্দাদের ঘর ছেড়ে চলে যেতে হবে।
মূলত গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলার পর থেকে ইসরায়েল লেবাননে হামলা জোরদার করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে বারবার দেয়া এই সতর্কতা লেবাননের রাজধানীর একটি বড় অংশজুড়ে প্রযোজ্য বলে বলা হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ বসবাস করছেন।,
আরও পড়ুন:








