লিবিয়া উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৭০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবারের এই দুর্ঘটনায় ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে এবং দুইজনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নৌকায় ১০০ থেকে ১২০ জন আরোহী ছিলেন। নৌকাটি শুক্রবার গভীর রাতে লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। সামুদ্রিক পরিস্থিতি খারাপ থাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নৌকায় পানি ঢুকে গিয়ে এটি উল্টে যায়।
জার্মান উদ্ধার সংস্থা ‘সি-ওয়াচ’ জানিয়েছে, তাদের বিমান ভিডিওতে দেখেছে যে উল্টে যাওয়া নৌকায় অন্তত ১৫ জন আটকা পড়েছিলেন, আশেপাশে ভেসে বেড়াচ্ছিল মরদেহ। ইতালীয় কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে একটি ইতালীয় মালবাহী জাহাজ এবং একটি লাইবেরীয় বাণিজ্যিক জাহাজ দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালায়। উদ্ধারকৃতদের ল্যাম্পেদুসায় আনা হয়েছে।
ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র এই যাত্রাকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়েছেন। নিখোঁজ ৭০ জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলমান, তবে বেঁচে থাকার আশা কমে যাচ্ছে।
আইওএম-এর তথ্যমতে, ২০১৪ সাল থেকে ভূমধ্যসাগরে ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থা ‘মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস’ ইউরোপীয় দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছে, বলেছে নিরাপদ প্রবেশ পথ বন্ধ থাকায় মানুষকে এভাবে মৃত্যুফাঁদে ঢুকতে হচ্ছে।
চলতি বছরে কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। গত সপ্তাহেও ল্যাম্পেদুসার ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি ডিঙি থেকে ১৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, যার মধ্যে অন্তত ১০ জন সুনামগঞ্জ জেলার।
আরও পড়ুন:








