শুক্রবার

৩ এপ্রিল, ২০২৬ ২০ চৈত্র, ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্যে ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন ঘাঁটিতে ২৩ হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:১৫

শেয়ার

মধ্যপ্রাচ্যে ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন ঘাঁটিতে ২৩ হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৩টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরাক ও আশপাশের অঞ্চলে পরিচালিত এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে একাধিক ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী।

ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন ‘সারায়া আউলিয়া আল-দাম’ জানিয়েছে, তারা একদিনে অন্তত পাঁচটি সফল হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামে একটি জোট দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা ইরাকসহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মোট ২৩টি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব হামলায় কয়েক ডজন ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে এই ধরনের সমন্বিত হামলা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গোষ্ঠীগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই তারা এ ধরনের অভিযান চালাচ্ছে।

‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে তারা উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করেছে, যা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যেতে সক্ষম। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর এই ধারাবাহিক হামলা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত বার্তা। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসব গোষ্ঠী এখন মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

একই সঙ্গে এতগুলো সমন্বিত হামলা পরিচালনা করার সক্ষমতা গোষ্ঠীগুলোর সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর ফলে ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের মধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরাকি সরকারের ওপরও চাপ বাড়ছে। কারণ, বিদেশি বাহিনীকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এদিকে, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলোকে মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, সেদিকে এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

সূত্র: আল জাজিরা



banner close
banner close