সোমবার

৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৬ চৈত্র, ১৪৩২

ইরানের নেতৃত্ব যুক্তিসঙ্গত: ট্রাম্প, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৪৫

আপডেট: ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৪৮

শেয়ার

ইরানের নেতৃত্ব যুক্তিসঙ্গত: ট্রাম্প, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার উদ্যোগ
ছবি সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেছেন, দেশটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রেখেছে এবং নতুন নেতারা খুবই যুক্তিসঙ্গত আচরণ করছেন। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে অপমান মেনে না নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অর্থপূর্ণ বৈঠকের আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।

রোববার ওয়াশিংটনগামী এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী, তবে তা না-ও হতে পারে। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমে তেহরানে শাসন পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্য ঠিক করেছিল, তার অনেকটাই অর্জিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প অন্তত দুইবার উল্লেখ করেন, খামেনির স্থলাভিষিক্ত নেতৃত্বকে যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর তার ছেলে মুজতাবা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, হাজার হাজার প্রাণহানি ঘটেছে, জ্বালানি সরবরাহে ঐতিহাসিক ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে।

রোববার তুরস্ক, মিশর, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুদ্ধবিরতির উপায় নিয়ে বৈঠক করেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য বৈঠকসহ সংঘাতের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে আসন্ন দিনগুলোতে অর্থপূর্ণ আলোচনার আয়োজনে পাকিস্তান সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে এ ধরনের বৈঠকে অংশগ্রহণে ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্মত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে এবং একই সঙ্গে আলোচনার বার্তা পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, মার্কিন সেনা নামলে ইরান পাল্টা ব্যবস্থা নেবে এবং যতদিন যুক্তরাষ্ট্র আত্মসমর্পণ চাইবে, ততদিন অপমান মেনে নেওয়া হবে না।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের হাতে স্থল অভিযানের বিকল্প রাখতেই এই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্ভাব্য আলোচনার আগে ইরানে হামলা কমানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই এবং তারা সামরিক লক্ষ্যমাত্রায় হামলা অব্যাহত রাখবে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মধ্য ও পশ্চিম ইরানে ১৪০টির বেশি বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র ও অস্ত্রগুদাম লক্ষ্যবস্তু ছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মেহরাবাদ বিমানবন্দর ও তাবরিজের উত্তরে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রে হামলার খবর দিয়েছে।

ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রাখায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ৭২ ডলারের কাছাকাছি। বিশ্বের তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ অভিযানসক্ষম আরও কয়েকশ মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। শুক্রবার মার্কিন উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ট্রিপলি কয়েক হাজার মেরিন নিয়ে অঞ্চলে পৌঁছেছে বলে সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগন ইরানে স্থল অভিযানের বিষয়টি বিবেচনা করলেও ট্রাম্প এ বিষয়ে এখনো কোনো পরিকল্পনা অনুমোদন দেননি।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে রোববার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের তেল নিতে চান এবং সে লক্ষ্যে দেশটির প্রধান রপ্তানি হাব খার্ক দ্বীপের দখল নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন। ইরানের তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই এই দ্বীপ থেকে হয়। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বীপটি দখল করা তুলনামূলক সহজ হলেও তা ধরে রাখা মার্কিন সেনাদের জন্য কঠিন হবে।

এদিকে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতিরা শনিবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হয়েছে। বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার ইসরায়েলের কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ইয়েমেন থেকে ছোড়া দুটি ড্রোন প্রতিহত করেছে।



banner close
banner close