মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম সিরামিক উৎপাদন কেন্দ্র গুজরাটের মোরবিতে প্রায় ৮০ শতাংশ কারখানা উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্পকেন্দ্রে সংকটের কারণে প্রায় চার লাখ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ভারতের সিরামিক শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু মোরবি দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ মৃৎশিল্প—মূলত টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার—উৎপাদন করে এবং এসব পণ্য মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপে রপ্তানি করা হয়। মোরবি সিরামিক উৎপাদক সমিতির উপদেষ্টা মুকেশ কুন্দারিয়া জানিয়েছেন, প্রায় ৫৫০টি কারখানা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারকারী মাত্র কয়েকটি কারখানা গ্যাস পাওয়ার ওপর নির্ভর করে সীমিত আকারে চালু রয়েছে।
কারখানা মালিক অমিত প্রজাপতির তথ্য অনুযায়ী, মোরবির প্রায় ১০ জনের মধ্যে চারজন কারখানা মালিক উৎপাদনের প্রধান জ্বালানি প্রোপেন ব্যবহার করেন, বাকিরা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। কারখানা মালিকরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রোপেন কেনেন, আর রাষ্ট্রীয় পরিবেশকের কাছ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ পান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিলে এই জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
মোরবি সিরামিক উৎপাদক সমিতির তথ্যমতে, এই অচলাবস্থা আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে। বর্তমানে মোরবির প্রায় তিন হাজার সিরামিক বিক্রেতা ও পরিবেশক বিদ্যমান মজুদের ওপর নির্ভর করছেন, কারণ নতুন সরবরাপ কমপক্ষে এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে অভ্যন্তরীণ বাজারে ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং আগামী এপ্রিল মাস থেকে মজুদ কমতে শুরু করার আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের মৃৎশিল্পের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, যার অধিকাংশই মোরবি কেন্দ্রিক।
আরও পড়ুন:








