উত্তর কোরিয়া একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র ইঞ্জিনের সফল গ্রাউন্ড জেট পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, এ ইঞ্জিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরিতে ব্যবহৃত হবে। রোববার এ পরীক্ষা তদারকি করেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন।
কেসিএনএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই ইঞ্জিনে কম্পোজিট কার্বন ফাইবার উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোটন, যা আগের পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রায় ১ হাজার ৯৭১ কিলোটন ক্ষমতার ইঞ্জিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ প্রযুক্তি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে উল্লেখ করে কেসিএনএ।
উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, এই পরীক্ষা তাদের পাঁচ বছর মেয়াদি সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কর্মসূচির অংশ। এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো এমন কৌশলগত হামলা সক্ষমতা তৈরি করা, যার মাধ্যমে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হবে। কেসিএনএ এই পরীক্ষাকে দেশের সামরিক শক্তিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছে।
কিম জং উন দেশটিকে শক্তিশালী পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনের জন্য দায়ী বলে মন্তব্য করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া একাধিক আইসিবিএম পরীক্ষা চালিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করে। বিশেষ করে সলিড-ফুয়েল প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হয় এবং তা আগাম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইঞ্জিনের ক্ষমতা বাড়ানোর এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক ওয়ারহেড স্থাপনের পরিকল্পনার অংশ হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে। তবে একটি কার্যকর আইসিবিএম পুরোপুরি প্রস্তুত করতে উত্তর কোরিয়াকে এখনো কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এর মধ্যে রয়েছে ওয়ারহেডকে বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময়ের তীব্র তাপ ও চাপ সহ্য করার সক্ষমতা নিশ্চিত করা। তবে দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করার কারণে দেশটি এই সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে মনে করেন অনেকে।
২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক এক পার্টি কংগ্রেসে কিম আলোচনার সম্ভাবনা খোলা রাখলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:








