মঙ্গলবার

২৪ মার্চ, ২০২৬ ১০ চৈত্র, ১৪৩২

সাবমেরিন যুদ্ধের প্রস্তুতি? সমুদ্রতলের মানচিত্রে নজর চীনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ, ২০২৬ ২০:১৪

শেয়ার

সাবমেরিন যুদ্ধের প্রস্তুতি? সমুদ্রতলের মানচিত্রে নজর চীনের
ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে সম্ভাব্য সামুদ্রিক প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে সমুদ্রতলের বিস্তৃত মানচিত্র তৈরি ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে চীন। প্রশান্ত, ভারত ও আর্কটিক মহাসাগরজুড়ে পরিচালিত এই কর্মসূচিকে ভবিষ্যৎ সাবমেরিন যুদ্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওশান ইউনিভার্সিটি অব চায়না পরিচালিত গবেষণা জাহাজ ‘ডং ফাং হং–৩’ ২০২৪-২৫ সময়ে তাইওয়ান, গুয়াম ও ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় একাধিকবার চলাচল করে সমুদ্রতল ও পানির বৈশিষ্ট্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, এসব কার্যক্রম জলবায়ু ও পলিমাটি গবেষণার অংশ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সংগৃহীত তথ্য সাবমেরিন পরিচালনা এবং প্রতিপক্ষের সাবমেরিন শনাক্তে সহায়ক হতে পারে।

চীনের এই কর্মসূচিতে ডজনখানেক গবেষণা জাহাজ ও শত শত সেন্সর ব্যবহৃত হচ্ছে। গত পাঁচ বছরের জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত কয়েকটি জাহাজ সরাসরি সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরিতে নিয়োজিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রতলের গঠন, পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও স্রোতের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সাবমেরিনকে আড়ালে রাখা, নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করা এবং শত্রুপক্ষের অবস্থান শনাক্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক নৌ-কমান্ডার পিটার স্কটের ভাষায়, “যুদ্ধক্ষেত্রের প্রস্তুতিতে এ ধরনের তথ্য অমূল্য।”

চীনের এই কার্যক্রম বিশেষভাবে ফিলিপাইন, গুয়াম, হাওয়াই এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির আশপাশের এলাকায় কেন্দ্রীভূত। পাশাপাশি মালাক্কা প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘সিভিল-মিলিটারি ফিউশন’ নীতির আওতায় বেসামরিক গবেষণার তথ্যও সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও চীন এটিকে ‘স্বচ্ছ মহাসাগর’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করছে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিষয়টিকে কৌশলগত উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই বিস্তৃত সমুদ্র জরিপ কার্যক্রম চীনের সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করছে এবং এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সুবিধা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।



banner close
banner close