ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ট্রানজিট রিমান্ডে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে গেছে দেশটির জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। আদালতের অনুমতি নিয়ে সোমবার রাতে দমদম সেন্ট্রাল জেল থেকে তাদের হেফাজতে নিয়ে বিমানযোগে দিল্লিতে নেয়া হয়।
এর আগে রোববার কলকাতার বিধাননগর মহকুমা আদালত তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। পরদিন এনআইএ আদালতে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয়ার আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানির সময় দুই অভিযুক্তকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়।
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার তাদের দিল্লির এনআইএ আদালতে হাজির করা হবে। সেখানে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে একই মামলায় ভারতে গ্রেপ্তার তৃতীয় বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে হেফাজতে নেয়ার আবেদন করেনি এনআইএ।
এর আগে আদালত ফয়সাল ও আলমগীরকে ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছিল। আদালতে আনা-নেয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, সিসিটিভি ফুটেজে তাকে গুলি করতে দেখা যায়নি এবং ঘটনাস্থলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) জানায়, গত ৭ মার্চ মধ্যরাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশি তদন্তে ফয়সাল করিমের নাম উঠে আসে। গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এদের মধ্যে ১২ জনকে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর প্রধান দুই আসামি ফয়সাল ও আলমগীর এবং তাদের পালাতে সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত ফিলিপ সাংমা ভারতে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
আরও পড়ুন:








