স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুসারে ইসরায়েলের কাছে আনুমানিক ৮০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। দেশটি পারমাণবিক অস্ত্রের অস্তিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার বা অস্বীকার করেনি এবং নিউক্লিয়ার অস্পষ্টতা নীতি অনুসরণ করে আসছে। শনিবার ইরান ইসরায়েলের দিমোনা শহরে হামলা চালিয়েছে, যেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা অবস্থিত।
ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতার মধ্যে বিমান ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক ডেলিভারি সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত। দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি এবং এর স্থাপনাগুলো আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের আওতায় পড়ে না। কৌশলগত আলোচনায় স্যামসন অপশন নামে একটি ধারণা ব্যবহৃত হয়, যা বাইবেলের স্যামসনের কাহিনি থেকে নেওয়া। এই ধারণা অনুসারে, দেশের অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে পড়লে ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে শত্রুদের সঙ্গে নিজেকেও ধ্বংস করতে পারে।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতি ১৯৬৭ ও ১৯৭৩ সালের যুদ্ধসহ বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রভাবিত। দেশটি এসব ঘটনাকে জাতীয় অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে বিবেচনা করে। গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানসহ একাধিক ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং অঞ্চলটির অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। কিছু সামরিক বিশ্লেষকের মতে, যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবহৃত বিস্ফোরক শক্তি হিরোশিমা পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ শক্তির কয়েক গুণের সমান। অনেক মানবাধিকার সংস্থা ও আইনবিদ এই ধ্বংসের মাত্রাকে গণহত্যাসদৃশ বলে বর্ণনা করেছেন।
বর্তমান ইসরায়েলি সরকারকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠোরপন্থী সরকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী ও সামরিকমুখী নীতির সমর্থন বেড়েছে। এতে অস্তিত্বগত হুমকি বিবেচনার সীমা নিচে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ প্রচেষ্টার মধ্যে একটি অনন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এই প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলছে।
আরও পড়ুন:








