দক্ষিণ ইসরায়েলের ডিমোনা শহরে অবস্থিত একটি পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের কাছে ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে ডিমোনা ও নিকটবর্তী আরাদ শহরে কমপক্ষে ১০৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ডিমোনা কেন্দ্রটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বৃদ্ধির খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শনিবার সকালে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। নাতাঞ্জের ঘটনাকে ইরানের নিজস্ব পরমাণু শক্তি সংস্থা (এওইআই) পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই ঘটনায় কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিঃসরণ হয়নি এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের কোনো ঝুঁকি ছিল না।
ইসরায়েলের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ডিমোনায় হামলার পর ৪০ জনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭ জনের আঘাত সামান্য এবং ১০ বছর বয়সী এক বালকের অবস্থা গুরুতর। আরাদ শহরে পৃথক এক হামলায় আরও ৬৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে ৪৭ জনের আঘাত সামান্য এবং ১০ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আরাদের ঘটনাস্থল সম্পর্কে জরুরি চিকিৎসা কর্মী ইয়াকির তালকার এক বিবৃতিতে বলেন, সেখানে বিভিন্ন মাত্রার আঘাত নিয়ে বহু আহত ব্যক্তি রয়েছেন।
ইসরায়েলি দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন, ডিমোনা এবং আরাদ উভয় স্থানেই ইন্টারসেপ্টর উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। এগুলো হুমকিগুলোকে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয়, ফলে শত শত কিলোগ্রাম ওজনের ওয়ারহেডযুক্ত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। কীভাবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে পৌঁছাল, তা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত শিমন পেরেস নেগেভ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রটি ডিমোনা রিঅ্যাক্টর নামে পরিচিত। আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে দাবি করলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি ইসরায়েলের অঘোষিত পারমাণবিক অস্ত্রের ভান্ডার হিসেবে স্বীকৃত। ইসরায়েল সরকার এ বিষয়ে অস্পষ্ট অবস্থান বজায় রেখেছে এবং এটিই মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তাই একে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে—এমন যেকোনো ইঙ্গিতকে ইসরায়েল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়।
আইএইএ-র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সর্বোচ্চ সামরিক সংযম প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর আশেপাশে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
নাতাঞ্জের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ওই এলাকায় কোনো হামলার বিষয়ে তারা অবগত নয়। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রথম দিকে এবং জুনে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধকালীন সময়েও নাতাঞ্জ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
আরও পড়ুন:








