রবিবার

২২ মার্চ, ২০২৬ ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেও তেলের দাম কমাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ মার্চ, ২০২৬ ০৮:৩২

শেয়ার

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেও তেলের দাম কমাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সংঘাতের মধ্যে ইরানের জ্বালানি তেল রফতানিতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে ৩০ দিনের জন্য এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেনি। বরং গত শুক্রবার ফিউচার মার্কেটে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পৌঁছেছে ১১২ ডলারে, যা সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। স্পট মার্কেটে গতকাল রাত পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুডের দাম ছিল ১৪৬ ডলার ৪০ সেন্ট এবং আরব লাইটের দাম ১২৭ ডলার ৫ সেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, এটি ইরানের কৌশল ব্যর্থ করে জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনার একটি উপায়। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, এ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সাময়িক এবং এর মূল লক্ষ্য জ্বালানি মূল্যের অস্বাভাবিক উত্থান ঠেকানো। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান যেভাবেই হোক এ তেল বিক্রি করত, এখন তারা শুধু ক্রেতা বদলে দিচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর তিন সপ্তাহের মাথায় তেল ও গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বিকল্প প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে কৌশলগত মজুদ থেকে কয়েকশ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং রুশ জ্বালানি তেলের ওপর আগের নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করেছে। তবুও বাজারে তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমেনি।

বাজার বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রু মনে করছেন, বর্তমানে ইরানের ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেল সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। এ পরিমাণ বিশ্বব্যাপী মাত্র দেড় দিনের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। এই সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে গেলে আবার বড় সংকট তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিলের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি মত দিয়েছেন।

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির অ্যাটমিক এনার্জি অর্গানাইজেশন। গতকাল সকালে শাহিদ আহমাদি রোশন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে এ হামলা চালানো হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, হামলার অভিঘাতে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিঃসরণ ঘটেনি এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়নি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরান তাদের এ বিষয়ে অবহিত করেছে এবং তারা তদন্ত করছে। সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রসি যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে সামরিক সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, গতকাল ভোরেও ইরান থেকে দেশটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা চালানো হলে কঠিন প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যে আরও তিনটি যুদ্ধজাহাজ ও আড়াই হাজার মেরিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে পেন্টাগন। এতে ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলে মোতায়েনকৃত পঞ্চাশ হাজারের বেশি সেনার সঙ্গে যুক্ত হবে তারা। এ ছাড়া ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ ঘাঁটির দিকে দুটি মাঝারিপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। দেশটির বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তবে কোনোটি লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে আরও হামলা চালানোর অনুমতি দেন।



banner close
banner close