শনিবার

২১ মার্চ, ২০২৬ ৬ চৈত্র, ১৪৩২

ইরান ইস্যুতে মার্কিন-ইসরায়েল জোটে ফাটল ধরার ইঙ্গিত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ মার্চ, ২০২৬ ২২:১৬

শেয়ার

ইরান ইস্যুতে মার্কিন-ইসরায়েল জোটে ফাটল ধরার ইঙ্গিত
ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করলেও এ বিষয়ে দুই পক্ষের নানা বক্তব্য ও প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অসংলগ্নতা ইসরায়েলের ভাবমূর্তির জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। গ্যালপের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, একবিংশ শতাব্দীতে এসে মার্কিন নাগরিকদের কাছে ইসরায়েলের গ্রহণযোগ্যতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের প্রতি মার্কিন জনগণের সহানুভূতির ব্যবধান প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক শিবিরের ভেতরেও ইসরায়েল ইস্যুতে বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে। ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগপত্রে অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ও দেশটির শক্তিশালী লবিংয়ের চাপেই যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়ানো হয়েছে। তিনি রক্ষণশীল অধিকারকর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের পেছনে ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা থাকার মতো ষড়যন্ত্র তত্ত্বকেও সমর্থন দিয়েছেন। যদিও এস্টাবলিশমেন্ট রিপাবলিকানরা কেন্টের অবস্থান উড়িয়ে দিয়েছেন, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আসন্ন হুমকি হিসেবে দাবি করেন। তার বক্তব্য থেকে জনমনে ধারণা জন্মেছে যে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করছে যুদ্ধে জড়াতে। গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকে কিছু জানত না। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম সিএনএনের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার বিষয়ে আগে থেকেই অবগত ছিল এবং ইসরায়েলি সূত্রগুলোও সমন্বিত হামলার কথা জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে প্রশ্ন করা হয়—ইসরায়েল যদি নিজেদের স্বার্থেই কাজ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কেন সহায়তা করছে। তিনি এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি। একইভাবে ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স তুলসি গ্যাবার্ডও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য এক কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দিতে ব্যর্থ হন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, দক্ষিণ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রে ইসরায়েল একাই হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকে জানত কি না, সে বিষয়ে তিনি নীরব থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে আনার অভিযোগকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেন তিনি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অসংলগ্ন বার্তা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার প্রবণতা ইসরায়েলের সুনামকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে ফেলছে। মার্কিন জনগণের বড় অংশ এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দিহান এবং প্রশাসনের অস্পষ্টতা সেই সন্দেহকে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে রূপ দিচ্ছে। এর ফলে মার্কিন সমাজে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ অবস্থান বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।



banner close
banner close