শুক্রবার

২০ মার্চ, ২০২৬ ৬ চৈত্র, ১৪৩২

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ৯৫ শতাংশ কমেছে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ মার্চ, ২০২৬ ১৭:১৬

শেয়ার

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ৯৫ শতাংশ কমেছে
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। যুদ্ধ শুরুর দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পথে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয় এই প্রণালি দিয়ে। সংঘাতের কারণে এ পথে জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩৮টি জাহাজ এই পথে যাতায়াত করলেও বর্তমানে সংখ্যাটি নেমে এসেছে পাঁচ থেকে ছয়টিতে। চলতি মার্চ মাসে মাত্র ৯৯টি জাহাজ সংকীর্ণ এই জলপথ অতিক্রম করেছে।

শিপিং অ্যানালিস্ট কেপলারের তথ্য বলছে, বর্তমানে যেসব জাহাজ ঝুঁকি নিয়ে এই পথে চলাচল করছে, তাদের একটি বড় অংশ ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। গত ২০ দিনে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়া জাহাজগুলোর এক-তৃতীয়াংশ ইরানি। এ সময়ে দেশটির পতাকাবাহী জাহাজ ছিল ১৪টি। তেহরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্যের কারণে নিষেধাজ্ঞায় থাকা কয়েকটি জাহাজও এই পথ অতিক্রম করেছে। চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজের মধ্যে নয়টির মালিকানা চীনা প্রতিষ্ঠানের। আর অন্তত ছয়টি জাহাজের গন্তব্য ছিল ভারত।

পশ্চিমা মালিকানার কয়েকটি জাহাজও ঝুঁকি নিয়ে হরমুজ পাড়ি দিয়েছে। ইরান-সংশ্লিষ্ট নয় এমন কিছু জাহাজ, যার মধ্যে গ্রিক মালিকানাধীন জাহাজ রয়েছে, এ সময়ে ইরানি বন্দরে নোঙর করেছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়াতে নাবিকরা প্রচলিত রুট পরিবর্তন করে অন্য পথ বেছে নিচ্ছেন, যাতে পথের দূরত্ব বাড়ছে।

ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ পাকিস্তানের পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাংকার ইরান উপকূলের খুব কাছ দিয়ে যাতায়াত করে। হামলা থেকে বাঁচতে এবং রাডারের নজর এড়াতেই নাবিকরা এ ধরনের কৌশল নিচ্ছেন।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ নিত্যপণ্যের দামে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হবে।



banner close
banner close