শুক্রবার

২০ মার্চ, ২০২৬ ৬ চৈত্র, ১৪৩২

৫৯ বছর পর আল-আকসায় ঈদের নামাজে নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৯

শেয়ার

৫৯ বছর পর আল-আকসায় ঈদের নামাজে নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলের
ছবি সংগৃহীত

দখলদার ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ ৫৯ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ২০ মার্চ শুক্রবার জেরুজালেমের পুরনো শহরে অবস্থিত এই মসজিদ প্রাঙ্গণ ছিল সম্পূর্ণ ফাঁকা, যা ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের মাঝে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অজুহাতে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মুসল্লিরা এ পদক্ষেপকে জেরুজালেমে দখলদারি জোরদার করার কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে।

নিষেধাজ্ঞার ফলে শুক্রবার ভোর থেকে আল-আকসা মসজিদের গেট বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলি পুলিশ। মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং পুরনো শহরের প্রবেশপথগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ অবস্থায় আল-আকসার প্রধান ইমাম শেখ ইক্রিমা সাবরি ফিলিস্তিনিদের প্রতি মসজিদের যতটা সম্ভব কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান। তার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বহু ফিলিস্তিনি পুরনো শহরের প্রবেশমুখ ও মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় জড়ো হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

এদিকে ঈদুল ফিতরের দিন পূর্ব জেরুজালেমে ছিল অস্বাভাবিক নীরবতা। সাধারণত ঈদের দিনগুলোতে ফিলিস্তিনিদের ভিড়ে পরিপূর্ণ থাকলেও এবার পুরনো শহরের অলিগলি ছিল প্রায় জনশূন্য। স্থানীয় দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়, শুধুমাত্র কিছু ফার্মেসি ও জরুরি পণ্যের দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।

এর আগে রমজান মাসজুড়ে আল-আকসায় ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করে ইসরায়েলি বাহিনী। ওই সময় মসজিদের বাইরে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা হয়েছে। আরব লীগ ও অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন ওআইসি বিবৃতি দিয়ে একে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। আফ্রিকান ইউনিয়নও এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।



banner close
banner close