কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি স্থাপনায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি জানিয়েছে, এতে স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কাতার এনার্জি জানিয়েছে, হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই হামলায় তাদের পার্ল গ্যাস-টু-লিকুইডস বা জিটিএল স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
ঘটনার পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনটি অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে দুটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। হামলায় ইরান থেকে ছোঁড়া পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে চারটি ধ্বংস করা গেলেও একটি রাস লাফান শিল্প নগরীতে আঘাত হানে বলে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। কাতার এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের পূর্ণ লঙ্ঘন ও বিপজ্জনক উস্কানি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এর জেরে কাতার ইরানি দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা পর এই হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছিল। রাস লাফান বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর একটি হওয়ায় এই হামলা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন:








