হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর ইরানের শিথিল করা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পতাকাবাহী চারটি জাহাজ এখনও ‘রেড জোন’ পার হতে পারেনি। এতে ওই জাহাজগুলোতে থাকা সব নাবিকসহ মোট ৯টি জাহাজে কর্মরত ১৪৬ জন বাংলাদেশি নাবিক ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। এসব জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালি এলাকায় বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’সহ চারটি জাহাজ অবস্থান করছে। এছাড়া বিদেশি মালিকানাধীন আরও পাঁচটি জাহাজে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাবিক কর্মরত রয়েছেন। সব মিলিয়ে ৯টি জাহাজে ১৪৬ জন বাংলাদেশি নাবিক বর্তমানে ওই অঞ্চলে আটকা পড়েছেন। গত সপ্তাহে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ছাড়া অন্যান্য দেশের জাহাজের জন্য চলাচলের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিলেও কার্যক্ষেত্রে বাংলাদেশি জাহাজগুলো তা পার হতে পারছে না। বুকিং থাকা ‘লিব্রেথা’ ও ‘ওয়াবি আলসেল’ নামের জাহাজ দুটিও প্রণালি অতিক্রমে ব্যর্থ হচ্ছে।
বিষয়টি সমাধানে পাঁচ দিন আগে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। এরই ধারাবাহিকতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে জাহাজগুলোর নিরাপদে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি নিতে কাজ করছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষ করে এ সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ চেইনেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৬টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ আসার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ পর্যন্ত ১০টি জাহাজ পৌঁছাতে পেরেছে। অন্যদিকে এলএনজি সরবরাহেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী ১৪, ১৮, ২৬ ও ২৭ মার্চ চারটি এলএনজি কার্গো আসার কথা ছিল, যার পরিমাণ দুই লাখ ৪৫ হাজার টন। যুদ্ধ শুরুর আগে পার হয়ে আসা চারটি এলএনজি জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছালেও নতুন চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী ২০ মার্চ ‘সোনানগাল বেনগুয়েল’ নামের একটি জাহাজ ৫৮ হাজার টন এলএনজি নিয়ে নোঙর করবে বলে নির্ধারিত রয়েছে।
নাবিকদের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জাহাজ মালিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে নাবিকদের খাদ্য ও জ্বালানি সংকট নেই তা নিশ্চিত করছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন:








