সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বুধবার (১৮ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা সংকট নিয়ে আরব ও ইসলামী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পারস্পরিক সমন্বয় ও পরামর্শ জোরদারের মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় যৌথ হামলা চালানোর পর থেকে এই সংকটের সূত্রপাত। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলি ও মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। এই হামলার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং কাতারের দোহাসহ গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় বিমানবন্দরগুলো একাধিকবার বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সাধারণ ভ্রমণ এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
বৈঠকের আগে মঙ্গলবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ সিরিয়া, আলজেরিয়া, ইরাক, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, মিসর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলোচনা করেন। এই আলোচনার মাধ্যমে তিনি চলমান সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আরব ও ইসলামী দেশগুলোর এই সম্মিলিত উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বর্তমান উত্তেজনার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগে তা নিরসনের কূটনৈতিক পথ খুঁজে বের করা। ইরানের হুমকির মুখে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও শক্তি স্থাপনাগুলো এখন উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই বৈঠক থেকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি সমন্বিত নীতি গ্রহণের আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:








