বুধবার

১৮ মার্চ, ২০২৬ ৪ চৈত্র, ১৪৩২

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করল মালয়েশিয়া

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৩১

শেয়ার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করল মালয়েশিয়া
ছবি সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহারি আব্দুল ঘানি জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড এখন অকার্যকর ও শূন্য বলে গণ্য হবে এবং এই চুক্তির কোনো আইনগত প্রভাব বিদ্যমান নেই।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ফেব্রুয়ারি ২০ তারিখে পারস্পরিক শুল্ক নীতি বাতিল করার ফলে এই চুক্তি কার্যকারিতা হারায়। ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির আওতায় মালয়েশিয়া থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ১৯ শতাংশ নির্ধারিত ছিল। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং বিনিময়ে মালয়েশিয়া মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার ও নীতি ছাড় দেয়।

মন্ত্রী জোহারি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো শুল্ক আরোপ করতে চায়, তা অবশ্যই সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট কারণের ভিত্তিতে হতে হবে। বাণিজ্য ঘাটতির কারণে শুল্ক আরোপ করলে মার্কিন সরকারকে সংশ্লিষ্ট শিল্প চিহ্নিত করতে হবে এবং সামগ্রিকভাবে শুল্ক আরোপের সুযোগ থাকবে না। বর্তমানে মার্কিন সরকার ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ১২২ প্রয়োগ করে ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক বহাল রেখেছে।

২০২৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে মার্কিন বাজারে মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৩ বিলিয়ন রিংগিত। বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক্স, তেল ও গ্যাস, পাম তেল এবং রাবার-ভিত্তিক পণ্য যেমন হ্যান্ডসগ্লভ খাতগুলোকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মন্ত্রী জোহারি মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের আন্তর্জাতিক শ্রম ও পরিবেশ সংক্রান্ত মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে বাণিজ্য প্রবাহে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।

মালয়েশিয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত মার্কিন শুল্ক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে চুক্তি গ্রহণ করেছিল এবং উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ছাড় দিয়েছিল। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে এসব চুক্তির অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা কার্যত বাতিল হয়ে গেছে।



banner close
banner close