মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি বিস্ফোরকবাহী উড়ন্ত বস্তু দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং ইরান সরকার যৌথভাবে এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সময় গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে বুশেহর শহরের এই পরমাণু স্থাপনাটি একটি ড্রোনের হামলার শিকার হয়। হামলায় ব্যবহৃত বস্তুটি সঠিকভাবে শনাক্ত করা না গেলেও এটি একটি ড্রোন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
আইএইএ জানিয়েছে, প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, এই হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোনো বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে পরমাণু স্থাপনায় এ ধরনের হামলাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আইএইএ-এর মহাপরিচালক পরমাণু স্থাপনায় যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা বন্ধের জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সংবেদনশীল এই স্থাপনাগুলোতে হামলার ফলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটলে তা সমগ্র অঞ্চলে ভয়াবহ পরিবেশগত ও মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
অপরদিকে, ইরান সরকার এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক norm-এর পরিপন্থী এই হামলা বন্ধ না হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে বৃহৎ আকারের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে, যা আঞ্চলিক পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই পরমাণু স্থাপনায় হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ এবং সম্ভাব্য আঞ্চলিক বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা।
আরও পড়ুন:








