মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সেন্ট্রাল কমান্ডের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বুধবার সকালে এই হামলা চালানো হয়, যেখানে পাঁচ হাজার পাউন্ড ওজনের ডিপ পেনিট্রেটর বা বাঙ্কার বাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হয়। ইরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত আক্রমণের প্রতিবাদে এই জলপথ বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের উপকূলরেখায় অবস্থিত সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে একাধিক বাঙ্কার বাস্টার বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই ঘাঁটিগুলোতে জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ছিল, যা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই পদক্ষেপের ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হবে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ অভিযানে সহায়তার জন্য ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানালেও অধিকাংশ দেশই এতে সাড়া দেয়নি। ট্রাম্প মিত্রদের এই অবস্থায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর দেশগুলোকে বিভিন্ন সময়ে সহায়তা করলেও প্রয়োজনের মুহূর্তে তারা পাশে দাঁড়াচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা সবার স্বার্থেই জরুরি, যদিও তেহরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত বলে দাবি করে আসছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য ট্রাম্পকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত তিনি তাঁর নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতেই নিয়েছেন এবং এর পুরো দায়ভার এখন তাঁর ওপরই বর্তাচ্ছে।
পাঁচ হাজার পাউন্ড ওজনের এই বাঙ্কার বাস্টার বোমাগুলো মাটির গভীরে বা পাহাড়ের ভেতরে থাকা সুরক্ষিত স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম। প্রতিটি বোমার আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ ৮৮ হাজার মার্কিন ডলার বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন:








