সোমবার

১৬ মার্চ, ২০২৬ ২ চৈত্র, ১৪৩২

ইরাকে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে কেন্দ্রীয় সরকারের হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৪৫

শেয়ার

ইরাকে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে কেন্দ্রীয় সরকারের হুঁশিয়ারি
ছবি সংগৃহীত

ইরাকের ফেডারেল সরকার কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের ভূখণ্ডে অভিযান চালাতে পারে—এমন কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কেআরজিকে দেওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, যদি তারা তা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইরাকি সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে সেখানে মোতায়েন করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরাকি, কুর্দি ও তুর্কি কর্মকর্তারা এই সতর্কবার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপে ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলো ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে—এমন উদ্বেগের মধ্যেই বাগদাদ এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত এক ইরাকি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের অভ্যন্তরে অভিযান চালাতে বাধা দিতে হবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, কেআরজি যদি তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ফেডারেল বাহিনী সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কুর্দি ও তুর্কি সূত্রগুলোও বাগদাদের এই বার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইরাকি কুর্দিস্তানে ফ্রি লাইফ পার্টি অব কুর্দিস্তান বা পিজেএকের মতো কয়েকটি ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে। এদের কয়েক হাজার যোদ্ধা রয়েছে এবং তারা ইরানের বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সংগঠিত বলে বিবেচিত। তবে এই গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম তেহরানের প্রতিশোধমূলক হামলা ডেকে আনতে পারে এবং ইরাককে সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে তারা ইরাকের অভ্যন্তরে অবস্থিত ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে।

তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলের কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আসছে। আঞ্চলিক সংঘাতে কুর্দিদের ব্যবহারের যে কোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে তারা বারবার সতর্ক করে আসছে।

কেআরজির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট জালাল তালাবানির ছেলে কুবাদ তালাবানি ইরানের ভেতরে কুর্দি বাহিনীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। চ্যানেল ৪ নিউজকে তিনি বলেন, তাদের বাহিনী এতে জড়াবে না। তিনি বলেন, এটি তাদের যুদ্ধ নয় এবং তারা তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে।

ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আসা পরস্পরবিরোধী বার্তার মধ্যে কুর্দি কর্তৃপক্ষ এই অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে কুর্দি নেতাদের সংঘাতে এক পক্ষ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানালেও, পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি চান না কুর্দিরা ইরানে প্রবেশ করুক। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরও নির্বাসিত দুই কুর্দি গোষ্ঠী পিজেএকে এবং ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান ইরানের ভেতরে গণতান্ত্রিক ও বিকেন্দ্রীভূত শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। পিজেএকের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার মাজলুম হাফতান জানান, তারা ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে স্থানীয় কমিটি গঠনের কাজ করছেন, যাতে ইরানি রাষ্ট্র সেখান থেকে সরে গেলে তারা দায়িত্ব নিতে পারে। তিনি বলেন, তারা আমেরিকা বা ইরান—কোনো পক্ষই নিচ্ছেন না, তাদের লক্ষ্য কুর্দি ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করা।

২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের ভেতরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ওয়াশিংটন বলছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অচল করাই এই হামলার উদ্দেশ্য। তবে তেহরান একে শাসক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিনা উস্কানিতে চালানো আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছে। হামলার পর ট্রাম্প ইরানিদের তাদের সরকারের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার আহ্বান জানান। এর জেরে পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও শিপিং অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।



banner close
banner close