রবিবার

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১ চৈত্র, ১৪৩২

লেবাননে যুদ্ধের প্রভাবে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০ লাখ মানুষ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৭:২৭

শেয়ার

লেবাননে যুদ্ধের প্রভাবে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০ লাখ মানুষ
ছবি সংগৃহীত

লেবাননে চলমান সংঘাতের কারণে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে ৮ লাখের বেশি মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় সাত ভাগের এক ভাগ। সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১০৩ শিশুসহ সাত শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ইসরায়েলি হামলা তীব্র হওয়া এবং বিভিন্ন এলাকা খালি করার নির্দেশের পর হাজার হাজার পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে, গাড়িতে অথবা অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করছেন। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা লেবানন সরকার এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পেরেছে।

বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির বাসিন্দা ফাতিমা নাঝা দুই দিন ধরে পরিবারসহ রাস্তায় অবস্থান করেছেন। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ফাতিমা জানান, সরকার যেসব বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেছে সেগুলো ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। পরে তারা রাজধানীর একটি বড় ফুটবল স্টেডিয়ামে তাঁবু খাটিয়ে আশ্রয় নেন।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১০৩ শিশুসহ সাত শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। আগে হামলা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তা জনবসতিপূর্ণ এলাকাতেও বিস্তৃত হচ্ছে। বৈরুতের রামলেট এল-বায়দা সমুদ্রসৈকত এলাকায় অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেওয়া মানুষের ওপর হামলায় সম্প্রতি অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার লেবানন প্রধান ম্যাথিউ লুসিয়ানো জানিয়েছেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রয়োজন দ্রুত বাড়লেও ত্রাণ সহায়তার সক্ষমতা তার তুলনায় অনেক কম। রাজধানীর জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে বর্তমানে আট শতাধিক মানুষ গাদাগাদি করে অবস্থান করছেন। সেখানে টয়লেটের ব্যবস্থা থাকলেও গোসলের সুযোগ নেই এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত।

এই সংকটে লেবাননে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইথিওপিয়া ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অনেক শ্রমিক চার্চসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মানুষ দলে দলে রাজধানী বৈরুতের দিকে আসছেন। সীমান্তে বিপুল সেনা মোতায়েন থাকায় সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বাস্তুচ্যুত অনেক মানুষের আশঙ্কা, তারা হয়তো আর নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে পারবেন না।



banner close
banner close