রবিবার

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১ চৈত্র, ১৪৩২

খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলা, ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ইঙ্গিত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:১৩

শেয়ার

খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলা, ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ইঙ্গিত
ছবি সংগৃহীত

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে আড়াই হাজার মেরিন সেনা তলব করা হয়েছে, যা ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংঘাতের ১৫তম দিনে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপে ইরানের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে দ্বীপের জ্বালানি অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

বিবিসির লাইভ ব্লগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বরাত দিয়ে বলা হয়, খার্গ দ্বীপে ৯০টির বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে তেলের স্থাপনায় সরাসরি আঘাত করা হয়নি। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, হামলার পরও তাদের তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। পাঁচ বর্গমাইল আয়তনের এই দ্বীপের মাধ্যমে ইরান তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল বিদেশে রপ্তানি করে।

মার্কিন প্রশাসন আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে শিগগিরই মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা সহায়তায় চলাচল করানো হবে।

খার্গ দ্বীপে হামলার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের জাহাজ, বন্দর, ডক ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের প্রায় আড়াই হাজার সেনা জাপানের ওকিনাওয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। এই বাহিনী স্থল ও সমুদ্র উভয় অভিযানে সক্ষম এবং প্রয়োজন হলে ইরানের মূল ভূখণ্ডে স্থল অভিযান পরিচালনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংঘাতের মধ্যে ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। একই সময় লেবাননভিত্তিক সংগঠন হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের কয়েকটি শহরে রকেট হামলার দাবি করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ইরানে প্রায় ৪০০টি বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইরানের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর দেশটির অন্তত ৫৬টি জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনা গুরুতর কাঠামোগত ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ৩৬ হাজার ৫০০টির বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশির ভাগই আবাসিক ভবন ও জনসেবাকেন্দ্র।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইরানে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সময়ে লেবাননেও ব্যাপক সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং অনেকেই সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অনাগ্রহ দেখিয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি আলোচনার উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা বন্ধ না করলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।



banner close
banner close