শনিবার

১৪ মার্চ, ২০২৬ ৩০ ফাল্গুন, ১৪৩২

ইরানের হুমকির মুখে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ব্যাংক শাখা খালি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ, ২০২৬ ২২:০৪

শেয়ার

ইরানের হুমকির মুখে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ব্যাংক শাখা খালি
ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ব্যাংক শাখাগুলোকে লক্ষ্য করার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। আইআরজিসির মুখপাত্র সর্দার নাঈনি এই হুমকি দেওয়ার পর দুবাই ও কাতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্রগুলোতে কার্যক্রম স্থগিত করে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি তেহরানে ব্যাংক সেপাহর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এই হামলার জন্য দায়ী করে। এর জবাবে সর্দার নাঈনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ইরানি ব্যাংকে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ব্যাংক শাখাগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি একই ধরনের হামলা চালায়, তাহলে অঞ্চলে অবস্থিত সব মার্কিন ব্যাংক শাখা ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার এলাকায় পরপর দুটি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে নিরাপত্তা শঙ্কায় সেখানে অবস্থিত সিটিগ্রুপ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মতো বড় মার্ক্ঞিান আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের অফিস খালি করে দেয় এবং কর্মীদের জন্য বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ জারি করে। একইভাবে কাতারে এইচএসবিসি তাদের সব শাখা বন্ধ ঘোষণা করে এবং আঞ্চলিক কর্মীদের দূরবর্তীভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেয়। গোল্ডম্যান স্যাকস এবং পিডব্লিউসি, ডেলয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানও সতর্কতামূলকভাবে একই পদক্ষেপ অনুসরণ করে।

তাসনিমের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ব্যাংক নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অফিসও ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এই তালিকায় গুগল, মাইক্রোসফট, আইবিএম, ওরাকল ও এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে ব্যাংকের এক কিলোমিটারের মধ্যে না যাওয়ার জন্য বিরল ও কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টারের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় এই সতর্কতা বাস্তবায়ন কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।



banner close
banner close