ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের জ্বালানি স্থাপনাগুলো অক্ষত রয়েছে। তবে ইরানি সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানলে গোটা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সব স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে সংবাদ সংস্থা আনাদলু জানিয়েছে, দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের তেল, অর্থনৈতিক বা জ্বালানি সম্পদের ওপর যেকোনো হামলার জবাবে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সব স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় খার্গ দ্বীপের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি নৌঘাঁটি ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়। এ সময় ১৫টির বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ইরানের দাবি, হামলায় দ্বীপটির তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানান, মার্কিন বাহিনী খার্গ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। তিনি ইরানকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা না দিতে সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি এ পথ বন্ধ করার চেষ্টা চালায়, তবে দ্বীপটির তেল স্থাপনাতেও হামলা চালানো হতে পারে।
খার্গ দ্বীপ ইরানের জ্বালানি খাত ও রাষ্ট্রীয় আয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ এই দ্বীপ দিয়েই হয়ে থাকে। গত বছর এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে। ফলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির এই সময়ে দ্বীপটির নিরাপত্তা ইরানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
আরও পড়ুন:








