পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের কৌশলগত খারগ দ্বীপে মার্কিন বিমান বাহিনী বোমা হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দেশটির বিমান বাহিনী দ্বীপটিতে অবস্থিত ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং সেগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই হামলার আওতা থেকে খারগ দ্বীপের তেল স্থাপনাগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিরত রাখা হয়েছে।
ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানি খাতের জীবনরেখা হিসেবে বিবেচিত খারগ দ্বীপটি বর্তমানে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই এই দ্বীপ হয়ে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিয়ে বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। বুশেহর শহরের নিকটে অবস্থিত এই দ্বীপটিকে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের রাজমুকুট হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, যা তার ভাষ্য মতে কোনো অতিরঞ্জন নয় বরং দ্বীপটির অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিই ইঙ্গিত করে।
মার্কিন এই সামরিক অভিযানের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের তেল অর্থনীতির প্রধান কেন্দ্রে সরাসরি হামলা হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দামের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এই হামলার মাধ্যমে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খারগ দ্বীপে এই হামলার জবাবে ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, যা পুরো অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। সূত্র: আল-জাজিরা
আরও পড়ুন:








