বৃহস্পতিবার

১২ মার্চ, ২০২৬ ২৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত, উদ্বেগ প্রকাশ মমতার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ মার্চ, ২০২৬ ২১:০৬

শেয়ার

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত, উদ্বেগ প্রকাশ মমতার
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সংকট দেখা দিয়েছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। পাশাপাশি, রাজ্যের গ্যাস সংকট মোকাবিলায় তিনি জরুরি পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল সফর করেন। এর দুদিন পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার কলকাতায় গ্যাস ডিলার ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়গত সাযুজ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক এই সংঘাতের প্রভাব ভারতের জ্বালানি খাতে সুদূরপ্রসারী আকার ধারণ করেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে ভারতীয় বাজারে রান্নার গ্যাস ও সিএনজি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দেশের মোট আমদানি করা এলপিজির একটি বিরাট অংশ এই পথ দিয়ে আসে।

পশ্চিমবঙ্গে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এলপিজি সিলিন্ডার পেতে ভোক্তাদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে স্কুলের মিড-ডে মিল ও হাসপাতালের রান্নাঘরেও দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। সিএনজি সংকটে অটো ও বাস পরিষেবা হুমকির মুখে পড়েছে এবং উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের সিএনজি বাস পরিষেবা বন্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেঙ্গালুরু, মুম্বাই ও লখনউয়ের মতো শহরে হোটেল বন্ধের ঘটনা ইতিমধ্যেই ঘটেছে এবং কলকাতার হোটেল মালিকরাও একই পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল সূত্রে জানা গেছে।

উৎপন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিভ প্রসিডিউর বা এসওপি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সহায়তা চেয়েছে রাজ্য।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী দেশে জ্বালানি ঘাটতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, স্বরাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে এক বৈঠকে রাজ্যগুলোকে মজুতের ওপর নজর রাখা, কালোবাজারি রোধ এবং আতঙ্ক না ছড়াতে সচেতনতা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



banner close
banner close