মঙ্গলবার

২১ এপ্রিল, ২০২৬ ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

ইরান-সমর্থিত হ্যাকারদের দাবি, মার্কিন চিকিৎসা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইকার সাইবার হামলার শিকার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ মার্চ, ২০২৬ ০৭:৪৬

শেয়ার

ইরান-সমর্থিত হ্যাকারদের দাবি, মার্কিন চিকিৎসা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইকার সাইবার হামলার শিকার
ছবি সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানভিত্তিক বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইকার সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। গত মাসে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরুর পর প্রথম বড় ধরনের এই সাইবার হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানপন্থী একটি হ্যাকার গোষ্ঠী।

প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলায় তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ও মাইক্রোসফট এনভায়রনমেন্ট মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। ডিফিব্রিলেটর, অ্যাম্বুলেন্সের খাঁটিয়া ও অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী স্ট্রাইকারের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ কোটি রোগী চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রাথমিক তদন্তে র‍্যানসমওয়্যার বা ম্যালওয়্যারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং বর্তমানে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আয়ারল্যান্ডের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আয়ারল্যান্ডে অবস্থিত কোম্পানির কম্পিউটার সিস্টেমগুলোও এই হামলার শিকার হয়েছে। হামলার খবর প্রকাশ পাওয়ার পর শেয়ার বাজারে স্ট্রাইকারের শেয়ারের দাম ৩ শতাংশের বেশি হ্রাস পায়। এই ঘটনায় মার্কিন স্বাস্থ্য খাতের সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে সরঞ্জাম সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করে হ্যাকার গোষ্ঠীটি জানায়, ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিশু হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় কমপক্ষে ১৬৮ জন শিশু নিহত হয়েছে। পেন্টাগন এই ঘটনা তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এর আগে সতর্ক করেছিলেন যে, ইরানে বোমাবর্ষণের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান-সম্পর্কিত হ্যাকাররা মার্কিন সাইবার স্পেসে পাল্টা হামলা চালাতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্ব কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও সাইবার যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।



banner close
banner close