মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন আলাপের পর তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধ এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্পন্ন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক অভিযানের লক্ষ্যগুলো প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত অর্জিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হামলার ফলে ইরানের কার্যকর নৌবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রস্তাব ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরেছেন। এর আগে তিনি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতা এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
এই আলোচনার পর মায়ামিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র কিছু দেশের ওপর আরোপিত তেলসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করবে। কূটনৈতিক মহলে এটি মূলত রাশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায়। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর তা কমে প্রায় ৯২ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নিউইয়র্কের শেয়ারবাজারে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
তবে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে একটি ‘নজিরবিহীন’ নৌ-অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে ফ্রান্সের একাধিক ফ্রিগেট, হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার এবং দেশটির বিমানবাহী রণতরী চার্লস দ্য গল অংশ নেবে।
এদিকে যুদ্ধের কারণে মানবিক সংকটও তীব্র হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে এই সংঘাতে এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কয়েকশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং সাতজন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানি এই সংঘাতকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:








