মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন ও ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের কোথাও তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর এক মুখপাত্র জানান, চলমান সংঘাতের সমাপ্তি কখন হবে তা ইরানই নির্ধারণ করবে। হামলা অব্যাহত থাকলে তারা পুরো অঞ্চলের তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ করে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইরানের এই ঘোষণার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তেল সরবরাহে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ওপর আগের তুলনায় অন্তত ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী সামরিক হামলা চালানো হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, এমন পদক্ষেপ নিলে ইরান এবং তাদের সহযোগীদের এমনভাবে আঘাত করা হবে যাতে তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে না পারে।
এদিকে এই সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ওই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে এবং বহু তেলবাহী ট্যাঙ্কার সমুদ্রে অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তাদের সামরিক অভিযানে ইরানের নৌ ও বিমান সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে তেহরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছে, তারা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।
আরও পড়ুন:








