শনিবার

৭ মার্চ, ২০২৬ ২৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

ব্রিটেনের ঘাঁটিতে মার্কিন বি-১ ল্যান্সার মোতায়েন, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ মার্চ, ২০২৬ ১৩:০০

শেয়ার

ব্রিটেনের ঘাঁটিতে মার্কিন বি-১ ল্যান্সার মোতায়েন, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর শক্তিশালী বোমারু বিমান বি-১ ল্যান্সার মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার বিমানটি সেখানে অবতরণ করে। ২৪টি পর্যন্ত ক্রুজ মিসাইল বহনে সক্ষম এই কৌশলগত বোমারু বিমান মোতায়েনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বি-১ ল্যান্সার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দ্রুতগতির কৌশলগত বোমারু বিমান। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪৬ ফুট এবং উইংস্প্যান প্রায় ১৩৭ ফুট। বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮৬ টন ওজনের এই বিমান ঘণ্টায় প্রায় ৯০০ মাইল গতিতে উড়তে পারে এবং এতে চারজন ক্রু দায়িত্ব পালন করেন। উন্নত রাডার ও জিপিএস ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক জ্যামার এবং ডিকয় প্রযুক্তি থাকার কারণে এটি শত্রু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে অভিযান পরিচালনায় সক্ষম।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, এই অনুমতি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সীমিতভাবে প্রযোজ্য। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা সরাসরি হামলায় অংশ নিচ্ছে না। তবে রয়্যাল এয়ার ফোর্স ইতিমধ্যে ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কাজে অংশ নিচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের মাত্রা বাড়তে পারে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আরও ফাইটার স্কোয়াড্রন এবং বোমারু বিমানের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রগুলোর ধারণা, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং একটি ডেস্ট্রয়ার মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুই নেতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা করেন।

এদিকে বিষয়টি যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক বিবিসি ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পাশাপাশি হামলার উৎসস্থলেও প্রয়োজন হলে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে তিনি সংঘাতে স্থল সেনা পাঠানোর বিপক্ষে মত দেন।

বর্তমানে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোর ওপর নজরদারি এবং সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। পরিস্থিতির অগ্রগতির ওপর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নির্ভর করছে।



banner close
banner close