শনিবার

৭ মার্চ, ২০২৬ ২৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

দুই বছরের সর্বোচ্চে তেলের দাম, উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কা কাতারের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ মার্চ, ২০২৬ ১০:৩৯

শেয়ার

দুই বছরের সর্বোচ্চে তেলের দাম, উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কা কাতারের
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে মজুত সংকট দেখা দিলে কয়েক দিনের মধ্যেই উৎপাদন বন্ধ করতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কাতার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক লাফে প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালের শরতের পর এটিই সর্বোচ্চ দাম। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অব্যাহত থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। তিনি সতর্ক করে জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো রফতানি বাধাগ্রস্ত হলে তাদের উৎপাদিত জ্বালানি মজুত করে রাখতে হবে। কিন্তু মজুতের জায়গা ফুরিয়ে গেলে কয়েক দিন বা বড়জোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না।

এদিকে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘কাতারএনার্জি’ ইতোমধ্যে তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এবং সরবরাহ চুক্তিতে ‘ফোর্স মেজিউর’ ধারা কার্যকর করেছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রফতানি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো যদি তেল রফতানি করতে না পারে, তবে তাদের উৎপাদিত তেল সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু মজুত সুবিধা সীমিত হওয়ায় দ্রুতই উৎপাদন বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমনকি যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও স্বাভাবিক উৎপাদন ও সরবরাহে ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

এরই মধ্যে ইউরোপের কিছু দেশে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যের গাড়ি চালকদের সংগঠন আরএসি জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের মধ্যে দেশটিতে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৩ দশমিক ৭ পেন্স এবং ডিজেলের দাম ৬ পেন্স বেড়েছে, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি শুধু পরিবহন খরচই বাড়াবে না; এর প্রভাব পড়বে খাদ্যদ্রব্যসহ আমদানিনির্ভর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপরও। ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আবার বাড়তে পারে এবং যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।



banner close
banner close