বৃহস্পতিবার

২৫ জুন, ২০২৬ ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩

খামেনীর এক্স অ্যাকাউন্টে ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি, মৃত্যুর গুজব নিয়ে নতুন প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৫৪

আপডেট: ৭ মার্চ, ২০২৬ ১১:২১

শেয়ার

খামেনীর এক্স অ্যাকাউন্টে ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি, মৃত্যুর গুজব নিয়ে নতুন প্রশ্ন
ছবি সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনীর–এর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর তার ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি ও সংক্ষিপ্ত বার্তা প্রকাশিত হওয়ায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ভোরে প্রকাশিত ওই পোস্টে খোররামশাহার ক্ষেপণাস্ত্রের উল্লেখ করা হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X–এ প্রকাশিত ওই পোস্টে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি দেখা যায় এবং ফার্সি ভাষায় খোররামশাহারের মুহূর্ত দিগন্তে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। খোররামশাহার ইরানের একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নাম।

বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, খোররামশাহার ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ১৩ মিটার দীর্ঘ এবং এটি প্রায় ১,০০০ থেকে ২,০০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এতে প্রায় ১,৮০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা রয়েছে।

পোস্টে প্রকাশিত ছবিতে উল্লেখ করা হয়, এই অস্ত্র ইরানের তরুণদের তৈরি এবং এটি ইসরাইলি শাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনার সঙ্গে প্রতীকী বা কৌশলগতভাবে যুক্ত থাকতে পারে।

এই পোস্ট প্রকাশের একদিন আগে ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর প্রকাশিত হয়। তেলআবিবের কাছে অবস্থিত Ben Gurion International Airport এবং একটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে।

ইসরাইলি সামরিক সূত্রের দাবি, ওই হামলায় খোররামশাহার–৪ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনী পরবর্তীতে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে প্রায় এক টন বিস্ফোরক বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা জানিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রশাসনের ঘোষিত অপারেশন এপিক ফিউরি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, এই উদ্যোগের কৌশলগত ও রাজনৈতিক উভয় মাত্রা থাকতে পারে।

তবে ঘটনাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে খামেনীর মৃত্যুর গুজবের মধ্যেই তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে কীভাবে পোস্ট প্রকাশিত হলো। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাকাউন্টটি ইরানের সরকারি বা সামরিক কাঠামোর সংশ্লিষ্ট কেউ পরিচালনা করতে পারেন। অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবেও দেখছেন, যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে বার্তা দেওয়া বা বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক নৌপথের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।



banner close
banner close