শুক্রবার

৬ মার্চ, ২০২৬ ২১ ফাল্গুন, ১৪৩২

‘জান হাতে নিয়েই আছি’, দুবাই থেকে বললেন বাংলাদেশি জাহাজের ক্যাপ্টেন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ মার্চ, ২০২৬ ২২:৪৬

শেয়ার

‘জান হাতে নিয়েই আছি’, দুবাই থেকে বললেন বাংলাদেশি জাহাজের ক্যাপ্টেন
ছবি: সংগৃহীত

‘প্রতিদিনই আকাশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আনাগোনা। দূরে কোথাও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি একটু ভালো মনে হচ্ছে। দৃষ্টি সীমায় কিছু দেখা যাচ্ছে না। অন্যান্য দিন এমন পরিস্থিতি গেছে সত্যি বলতে, জান হাতে নিয়েই আছি।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ থেকে এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম খান।

জানা যায়, জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা নিয়ে দিন কাটছে তাদের। কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। পরদিন বন্দরের ১০ নম্বর টার্মিনালে নোঙর করে। এরপরই অঞ্চলে সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতি বদলে যায়।

মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রথম দিনই জাহাজের খুব কাছাকাছি একটি তেলের স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নাবিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সবাই জাহাজের মধ্যেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। বর্তমানে ৯ নম্বর টার্মিনালে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের কাজ চলছে। বন্দরে এখন ১০০টির মত জাহাজ রয়েছে। পরিস্থিতিও কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। পন্য খালাস শেষ হতে আরও ৪-৫ দিন লাগবে। পরবর্তী গন্তব্য কুয়েত।

তিনি বলেন, শিপিং করপোরেশন, মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দূতাবাসসহ সবাই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। আমাদের বলা হয়েছে প্রয়োজনে হোটেলে ফিরে যেতে। তবে আমরা বলেছি জাহাজটি আমাদের দেশের সম্পদ। আমরা এটা ফেলে যাব না।

জাহাজে থাকা নাবিকদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও জ্বালানি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক।

তিনি বলেন, নাবিকরা নিরাপদে আছেন। পন্য খালাস চলছে। আমরা নাবিকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছি। নাবিকদের মনোবল চাঙা রাখতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এর আগে, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় অলভিয়া বন্দরে বাংলাদেশি জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। ওই হামলায় জাহাজটির প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান নিহত হন।



banner close
banner close