বৃহস্পতিবার

৫ মার্চ, ২০২৬ ২১ ফাল্গুন, ১৪৩২

ইরানের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা মাসে ১০ হাজার, ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে ভিন্ন ধারণা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০৮

শেয়ার

ইরানের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা মাসে ১০ হাজার, ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে ভিন্ন ধারণা
ছবি সংগৃহীত

ইরান প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা রাখে বলে একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন অনুমান পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে সংখ্যা ২,৫০০ থেকে প্রায় ৬,০০০ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুদানে পরিচালিত সেন্টার ফর ইনফরমেশন এই তথ্য জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অনুমান অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ২,৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। তবে অন্যান্য বিশ্লেষকদের মতে এই সংখ্যা প্রায় ৬,০০০-এর কাছাকাছি হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের গতিপথ ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে পারে। গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, ইরানের ধারাবাহিক ড্রোন কার্যক্রম আগামী কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও এক হাজারের বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। অধিকাংশ হামলা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইরান কৌশলগত সুবিধার জন্য লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মতো সহযোগী সংগঠনগুলিকে অস্ত্র সরবরাহ করে থাকতে পারে। এতে ইরানের নিজস্ব মজুত কিছুটা কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দাদের দাবি, সম্ভাব্য ঘাটতির একটি অংশ ইতিমধ্যে পূরণ করেছে ইরান।

এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে উৎক্ষেপণকেন্দ্র বা লঞ্চারের ঘাটতি একটি সীমাবদ্ধতা হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে কিছু লঞ্চার ধ্বংস হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ড্রোন সক্ষমতা সংঘাতের ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শাহেদ-১৩৬ মডেলের ড্রোনের কার্যকর পাল্লা ৭০০ থেকে ১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি স্থলভাগ বা জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে বিস্তৃত অঞ্চলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত ধারণা পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।



banner close
banner close