বুধবার

৪ মার্চ, ২০২৬ ২০ ফাল্গুন, ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন, উপসাগরজুড়ে নতুন উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ মার্চ, ২০২৬ ০৮:২২

শেয়ার

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন, উপসাগরজুড়ে নতুন উদ্বেগ
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পাওয়া ইরানের ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন এখন উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন স্থানে শত শত ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই তেহরান এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাহরাইনের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে একটি ডেল্টা-উইং ড্রোন বহুতল ভবনের দিকে ধেয়ে গিয়ে আঘাত হানে। আঘাতের পর ভবনের ব্যালকনি অংশে আগুন ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে এক হাজারের বেশি ড্রোন হামলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর বড় একটি অংশ ‘শাহেদ-১৩৬’ মডেলের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তাদের আকাশসীমায় ৬৮৯টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে ৬৪৫টি ভূপাতিত করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৪৪টি ড্রোন প্রতিরক্ষা ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে।

প্রায় সাড়ে তিন মিটার দৈর্ঘ্য ও আড়াই মিটার ডানার বিস্তারবিশিষ্ট ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন তুলনামূলক কম ব্যয়ে তৈরি করা যায়। প্রতিটি ড্রোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ হাজার ডলার। এগুলো প্রায় ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম। ধীরগতির হলেও নিচু দিয়ে উড়ে রাডার ফাঁকি দেওয়ার জন্য প্রোগ্রাম করা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণের সুবিধাও রয়েছে, যা শেষ মুহূর্তে গতিপথ পরিবর্তনের সুযোগ দেয়।

বাহরাইনের আরেকটি ফুটেজে দেখা যায়, একটি ড্রোন মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটির ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে একটি রাডার ডোমে আঘাত হানে। আঘাতে স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি সাইপ্রাসের আক্রোতিরিতে অবস্থিত ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ড্রোনগুলোর সম্ভাব্য পাল্লা প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন প্রথম আন্তর্জাতিক আলোচনায় আসে ২০২১ সালের জুলাইয়ে, যখন ইসরায়েলি মালিকানাধীন ‘মার্সার স্ট্রিট’ তেল ট্যাংকারে হামলায় দুইজন নিহত হন। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে এটি ব্যাপক পরিচিতি পায়। পরবর্তীতে রাশিয়া নিজস্ব কারখানায় এ ধরনের ড্রোন উৎপাদন শুরু করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনে এসব ড্রোন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। একই কৌশল উপসাগরীয় অঞ্চলেও প্রয়োগের আশঙ্কা রয়েছে। সোমবার সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগারে ড্রোন হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং স্থাপনাটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। তবে ব্যবহৃত ড্রোনটি ‘শাহেদ-১৩৬’ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।



banner close
banner close