মঙ্গলবার

২৪ মার্চ, ২০২৬ ১০ চৈত্র, ১৪৩২

দক্ষিণ এশিয়া থেকে গাজা: বহুমুখী যুদ্ধে অস্থির বিশ্ব

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ মার্চ, ২০২৬ ১২:২২

শেয়ার

দক্ষিণ এশিয়া থেকে গাজা: বহুমুখী যুদ্ধে অস্থির বিশ্ব
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ—তিন মহাদেশজুড়ে একাধিক সংঘাত একই সময়ে তীব্র হয়ে ওঠায় বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ, পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘায়ন এবং গাজার মানবিক বিপর্যয়—সব মিলিয়ে বিশ্ব রাজনীতি ক্রমেই অনিশ্চিত পথে এগোচ্ছে।

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো অভিযানের উদ্দেশ্য দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন এবং অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আইডিএফের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সামরিক পাল্টাপাল্টি আঘাত পরিস্থিতিকে দ্রুত বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ দিতে পারে।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনা

দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইসলামাবাদ ও কাবুল উভয়ই একে অপরের ভূখণ্ডে হামলার দাবি করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ পরিস্থিতিকে ‘সরাসরি যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ, নিরাপত্তা ইস্যু ও উগ্রবাদ দমন নিয়ে পারস্পরিক অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এ সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছর

ইউরোপে রাশিয়া ও ইউক্রেন-এর মধ্যে যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের হার বেড়েছে। উভয় পক্ষই সামরিক উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা জোরদার করছে।

ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনকে বড় অঙ্কের অর্থ ও সামরিক সহায়তা দিয়েছে। ফলে যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।

গাজার মানবিক সংকট

গাজা উপত্যকা-তে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ থাকলেও বিচ্ছিন্ন হামলা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসেবা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বৈশ্বিক প্রভাব

একাধিক সংঘাত একই সময়ে সক্রিয় থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়লে সামরিক সমাধানই প্রাধান্য পেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, আঞ্চলিক সংঘাতগুলো পরস্পরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হলেও বৈশ্বিক শক্তির সম্পৃক্ততার কারণে সেগুলোর প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় মধ্যস্থতা ও সংলাপের উদ্যোগই এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



banner close
banner close