ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়াল আবারও নজিরবিহীন দরপতনের মুখে পড়েছে। অনানুষ্ঠানিক বাজারে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দাম উঠে গেছে প্রায় ১৪ লাখ ৭০ হাজারে, যা দেশটির অর্থনৈতিক সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে। এ তথ্য জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
বাজার সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানা গেছে, একই সময়ে ইউরোর বিপরীতে রিয়ালের দর লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ ২০ হাজার এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে প্রায় ১৯ লাখ ৯৪ হাজার রিয়ালে। হঠাৎ ও দ্রুত এই অবমূল্যায়ন সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকেই রিয়ালের দরে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যায়। সে সময় মুদ্রার বড় ধরনের পতনের জেরে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক অসন্তোষে রূপ নেয়। লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এই ক্ষোভ আরও তীব্র করেছে।
সংকট মোকাবিলায় সরকার কিছু আর্থিক সহায়তা ও স্বস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দিলেও একই সঙ্গে মৌলিক পণ্য আমদানিতে ব্যবহৃত ভর্তুকিপ্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার সুযোগ সীমিত করেছে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফেরানোর অংশ।
তবে সমালোচকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ভর্তুকিভিত্তিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থা বাজারে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করেছে এবং একটি বিশেষ গোষ্ঠী এর সুযোগ নিয়েছে। পাশাপাশি এই নীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, রিয়ালের সাম্প্রতিক এই দরপতন শুধু মুদ্রাবাজারের সংকট নয়; এটি ইরানের সামগ্রিক অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রতিচ্ছবি। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:








