জনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন সৃষ্টি এবং সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে ৩০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ইরান। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তাসনিম নিউজ।
বুধবার রাতভর পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দাদের যৌথ অভিযোনে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে।
এদিকে দারিদ্র্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৯ ডিসেম্বর রোববার থেকে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তাতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে নিহত হয়েছেন ছয়জন এবং আহত হয়েছেন ১৭ জন। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বিক্ষোভকারী এবং আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের একজন সদস্য আছেন। এছাড়া আহতদের মধ্যে ১৩ জনই পুলিশ কর্মকর্তা কিংবা বাসিজের সদস্য। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট-পাটকেলে আহত হয়েছেন তারা।
ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়াল এমনিতেই বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। সম্প্রতি ডলার ও অন্যান্য বৈশ্বিক মুদ্রার বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান আরও কমে গেছে। একদিকে বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে ধারাবাহিকভাবে মুদ্রার মান কমতে থাকায় নাভিশ্বাস উঠছে ইরানের সাধারণ জনগণের। নিত্যপ্রয়োজনীয় আবশ্যিক ব্যয় মেটাতেও হিমসিম খাচ্চেন তারা।
এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৯ ডিসেম্বর রোববার ধর্মঘটের ডাক দেন তেহরানের দোকানমালিকরা। রোববার সারা দিন তেহরানে বেশিরভাগ দোকানপাট-বাজার-শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ ছিল।
ব্যবসায়ীদের ডাকা এই ধর্মঘটে সাড়া দেন সাধারণ মানুষ এবং এর জেরেই ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ।
নিহত এবং আহতরা সবাই ইরানের তিনটি শহর— লোর্দেগান, আজনা এবং পাশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কৌদাশতের বাসিন্দা। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর বরাত দিয়ে ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুইজন লোর্দেগান, তিনজন আজনা এবং একজন কৌদাশতের।
এ ছাড়া লোর্দেগানের একটি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। এসময় পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘাতে ১৩ পুলিশ সদস্য ও চার বিক্ষোভকারী আহত হন।
আরও পড়ুন:








