ভারতের আহমেদাবাদে গত জুনে বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট-১৭১ নিয়ে তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিমানের উড্ডয়নের কিছু সেকেন্ডের মধ্যেই বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের দুটি জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ ‘কাট-অফ’ হয়ে গিয়েছিল। এতে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (AAIB) প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত সুইচগুলো অবতরণের পর ‘কাট-অফ’ করা হয়, কিন্তু এখানে তা ঘটেছে উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মাথায়। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে শোনা গেছে, এক পাইলট অন্যজনকে জিজ্ঞেস করছেন“ তুমি কেন সুইচ বন্ধ করেছ?” জবাবে অপরজন বলেন, “আমি কিছু করিনি।”
তবে রেকর্ডিংয়ে কে কোন কথা বলেছেন তা শনাক্ত করা যায়নি। সহ-পাইলট তখন বিমান চালাচ্ছিলেন এবং ক্যাপ্টেন ছিলেন পর্যবেক্ষণে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘লিভার-লক ফুয়েল সুইচ’ এমনভাবে ডিজাইন করা যাতে দুর্ঘটনাবশত বন্ধ হওয়া প্রায় অসম্ভব। একে আনলক করে টানতে হয়, যা এক হাতে দুটি সুইচ একসঙ্গে টানা প্রায় অসম্ভব করে তোলে।
তদন্তকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, এটি ইচ্ছাকৃত, বিভ্রান্তির ফল, না যান্ত্রিক ত্রুটি—তা এখনো অস্পষ্ট। তবে এ ঘটনায় কোনও জরুরি পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি এবং ককপিটে ভুল বোতাম টেপার মতো আলোচনা ছিল না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের কণ্ঠস্বর চিহ্নিত করা এখন তদন্তের মূল চাবিকাঠি। কারা কী বলেছেন এবং কার হাতে সুইচ বন্ধ হয়েছিল—তা জানাই এখন অগ্রাধিকার। অনেকে ককপিট ভিডিও রেকর্ডার চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন।
রিপোর্টে আরও জানানো হয়, দুটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিমানের র্যাম এয়ার টারবাইন (RAT) স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোতায়েন হয়েছিল, যা বড় ধরনের সিস্টেম ব্যর্থতার ইঙ্গিত। এ সময় বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার প্রত্যাহার করা হয়নি বলেও জানা যায়।
প্রসঙ্গত, ১২ বছরের পুরোনো বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি উড্ডয়নের ৪০ সেকেন্ডের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় আবহাওয়া ছিল স্বাভাবিক এবং পাইলটসহ ক্রুরা সুস্থ ও বিশ্রামপ্রাপ্ত ছিলেন।
তদন্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, বোয়িং ও জিই-এর বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।
সূত্র: বিবিসি।
আরও পড়ুন:








