টানা ১২ দিনের তীব্র সংঘাতের পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে আপাতত যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে ইরান এই বিরতিকে শান্তির ফল নয়, বরং একটি কৌশলগত বিরতি হিসেবে দেখছে। তেহরানের মতে, এটি আসন্ন বড় সংঘাতের প্রস্তুতির সুযোগ মাত্র।
মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় এ সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের অন্তত ৯০০ জন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ ২৪ জন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং ১৪ জন পরমাণু বিজ্ঞানী। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেটে ছিলেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তেহরান মনে করে, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার পর ইসরায়েল কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৯৮০’র ইরান-ইরাক যুদ্ধের মতো এই লড়াইতেও তারা সময়ের ব্যবধানে বিজয়ের কৌশল গ্রহণ করেছে।
সংঘাতের সময় ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ক্ষতি হয়। তবে পাল্টা হামলায় ইরানও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ফাটল ধরিয়েছে।
বর্তমানে ইরান সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মজুত বৃদ্ধি, ‘ফাতাহ’ ও ‘খাইবার শেকান’ হাইপারসনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কাজ চলছে। পাশাপাশি রাশিয়ার এস-৪০০ ও সু-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে তেহরান। চীনের জে-১০ এবং পঞ্চম প্রজন্মের জে-২০ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে দেশটি।
আধুনিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আকাশভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার অভাব ইরানের একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে ধরা পড়েছে। তাই রাশিয়া ও চীন থেকে এই প্রযুক্তি আমদানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে তারা।
সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় হচ্ছে ইরান। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছে তারা। এ প্রক্রিয়া চলাকালে তেহরান পারমাণবিক আলোচনায় ফিরবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-র সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করেছে ইরান। গোপনে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে তাদের কৌশলগত চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তেহরান বিশ্বাস করে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপ বাড়বে। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরান নিজেদের পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন:








